গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অভিন্ন নদীগুলোর পানিবণ্টন চুক্তি চূড়ান্ত করতে দুই দেশ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।

হিমাচল প্রদেশের শৈল-শহর সিমলায় সদ্য সমাপ্ত বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ ডায়ালগে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সোমবার দিল্লিতে বৈঠককালে এ কথা জানিয়েছেন তিনি।

ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন আয়োজিত ১০ম রাউন্ডের এ ডায়ালগে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল যোগ দেয়। সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ভারতে নিযুক্ত বর্তমান ও সাবেক হাইকমিশনার, কূটনীতিক ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা এই প্রতিনিধি দলে আছেন।

ঢাকায় প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, শ্রিংলা বলেন, ‘গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের অভিন্ন ৫৪টি নদী দুই দেশের অভিন্ন সম্পদ ও দায়িত্ব। আমরা এখন অন্যান্য অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন চুক্তি চূড়ান্ত করতে যৌথভাবে কাজ করছি।’ এছাড়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও লবণাক্ততা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের কথাও জানিয়েছেন তিনি। যদিও দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তির ব্যাপারে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো তথ্য দেননি তিনি।

কানাডার ক্যালগেরীতে অমর একুশে উদযাপনকানাডার ক্যালগেরীতে অমর একুশে উদযাপন
২০১১ সালে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত করেছিল বাংলাদেশ ও ভারত। ভারতের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরকালে ঐ চুক্তিতে সই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর বিরোধিতার কারণে সেই চুক্তি হয়নি।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির মুখে থাকা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পানি সংরক্ষণ, খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং নদীর দূষণ ঠেকাতে আরও বেশি সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন শ্রিংলা। স্বাধীনতাবিরোধী ও কট্টরপন্থিরা নিজেদের স্বার্থে এ অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। এ অবস্থায় ভারতের পররাষ্ট্রসচিব ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মানুষে মানুষে যোগাযোগ ভারত ও বাংলাদেশ সম্পর্কের মূল। আরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে ভারতের বিভিন্ন নামি প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ দিতে চান তারা। এ সময় তিনি কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেন।

দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বলেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানির পরিমাণ বেড়েছে। এই গতি ধরে রাখার ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সমন্বিত অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি কার্যকর হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous post ৭০ বছরেও স্বীকৃতি পাননি চাঁদপুরের ৪০ ভাষা সংগ্রামী
Next post ডানা ছাঁটা শুরু করেছে আওয়ামী লীগ