বিএনপির কাউন্সিলর তালিকা ঘোষণা আজ মেয়র আগামীকাল

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ করেছে বিএনপি। আজ দল সমর্থিত কাউন্সিলর পদে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে।

তবে মেয়র পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে কাল। ঢাকায় পার্লামেন্টারি বোর্ডের বৈঠকে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শেষে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। বিএনপির দলীয় সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

চসিকে ৪১টি সাধারণ ও ১৪টি সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডসহ ৫৫টি ওয়ার্ডে বিএনপির দলীয় মনোনয়নপত্র নেন ২০৫ জন। প্রতি ওয়ার্ডে প্রায় চারজন মনোনয়নের জন্য লড়ছেন। কাউন্সিল পদে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে শনিবার নগরীর নূর আহমদ সড়কের নাসিমন ভবনের দলীয় কার্যালয়ে সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় ও নগর বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সমন্বয়ে গড়া মনোনয়ন বোর্ড সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে।

বোর্ডে ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, সহসভাপতি এমএ আজিজ, মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, নাজিমুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল আলম, যুগ্ম-সম্পাদক কাজী বলোল, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু, কামরুল ইসলাম। নগর বিএনপি সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন ঢাকায় অবস্থান করায় সাক্ষাৎকারে থাকতে পারেননি।

এদিকে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা সকাল থেকে দলীয় কার্যালয়ে ভিড় করেন। অনেকে কর্মী-সমর্থক সঙ্গে নিয়ে আসেন। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে দলীয় কার্যালয়।

প্রার্থী চূড়ান্ত প্রসঙ্গে মাহবুবের রহমান শামীম যুগান্তরকে বলেন, কাউন্সিলর পদে সাক্ষাৎকার গ্রহণ শেষে আজ রোববার চট্টগ্রাম থেকে চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করা হবে। মেয়র পদের প্রার্থী নির্ধারণ করবে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটি। সোমবার ঢাকায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সাক্ষাৎকার শেষে ওইদিনই মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।

মেয়র পদে ৬ জন দলীয় মনোনয়নপত্র নিলেও জমা দিয়েছেন ৫ জন। তারা হলেন- নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এরশাদ উল্লাহ, সহসভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর নিয়াজ মোহাম্মদ খান এবং মহিলা বিষয়ক সহসম্পাদক ডা. লুসি খান। সৈয়দ আজম উদ্দীন মনোনয়নপত্র নিলেও জমা দেননি।

দলীয় সূত্র জানায়, কয়েকটি ওয়ার্ডে একজন করে মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকায় ওইসব ওয়ার্ডে প্রার্থী নির্বাচনে কোনো সমস্যা নেই। তবে যেসব ওয়ার্ডে ৫-৬ জন করে প্রার্থী রয়েছে সেখানেই বেগ পেতে হচ্ছে। যেসব ওয়ার্ডে একাধিক প্রার্থী রয়েছেন সেখানে সবার সঙ্গে একত্রে কথা বলেছেন মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা।

সমঝোতার মাধ্যমে একজনকে মনোনয়ন দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বেশ ক’টি ওয়ার্ডে সমঝোতা হয়েছে। তবে কয়েকটি ওয়ার্ডে এখনও একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা যায়নি। এসব ওয়ার্ডে শেষ পর্যন্ত দলীয় প্রার্থীর বাইরে বিদ্রোহী প্রার্থীও দেখা যেতে পারে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর যুগান্তরকে বলেন, মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে যারা কয়েক বছর ধরে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন, যাদের ত্যাগ আছে, যারা নির্বাচিত হলে এলাকার সমস্যার সমাধান করতে পারবে এবং যাদের নিয়ে তেমন বিতর্ক নেই, তাদেরে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

২৯ মার্চ চসিক নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ মেয়র ও কাউন্সিলর পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন নগর শাখার যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরী। জাতীয় পার্টি থেকে নগর সভাপতি সোলায়মান আলম শেঠকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*