পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে: ইশরাক

দল সমর্থিত প্রার্থীদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিহত করতে গেলে বিএনপির কর্মীদের পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে ত্রিমোহনী বাজারে নির্বাচনী প্রচার শুরুর আগে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইশরাক এ অভিযোগ করেন।

অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার বড় ছেলে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আমাদের সমস্ত পোস্টার ছিঁড়ে ফেলছে। যাঁরা পোস্টার লাগাতে চাচ্ছেন, তাঁদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। মারধর করা হচ্ছে। থানা-পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।’ তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘পোস্টার লাগানো কী অপরাধ? তাহলে পোস্টার লাগাতে গেলে কেন থানা-পুলিশের হুমকি দেবে?’

ইশরাক বলেন, ‘আপনারা জানেন, দেশে আজ কী চলছে। দেশে একদলীয় রাষ্ট্রীয় শাসন চলছে, অপশাসন চলছে, ফ্যাসিস্ট সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। যা–ই হোক, এত কিছুর পরও জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে। আমরা দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে যাব।’

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মেয়র প্রার্থী বলেন, নতুন যুক্ত হওয়া ওয়ার্ডগুলোর উন্নয়ন নিয়ে তাঁদের ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে। ইশতেহারে এসব তুলে ধরবেন। তিনি বলেন, সরকার ঢাকার ভেতরের ওয়ার্ডগুলোতেই নজর দেয় না, বাইরের ওয়ার্ডগুলো তো আরও দূরের কথা। সরকারের জবাবদিহি না থাকায় তারা এসবে গুরুত্ব দেয় না।

নির্বাচনী প্রচার শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ইশরাক বলেন, ১৩ বছর ধরে দেশকে তিলে তিলে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। দেশে গণতন্ত্র নেই, কারও কথা বলার অধিকার নেই। উন্নয়নের নামে ধোঁয়া তোলা হচ্ছে। কিন্তু কোনো উন্নয়ন দেখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘ঢাকা আজ দূষিত শহর, বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় এক নম্বরে আছে।

এই এলাকায় আসতে গিয়ে রাস্তাঘাটের যে দুর্দশা দেখেছি, দুপাশের জলাশয়ের যে করুণ দশা দেখেছি, এতে আমার সত্যিই খারাপ লেগেছে।’ তিনি বলেন, ‘আগামী ৩০ জানুয়ারি যদি ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেন, আমি প্রতিজ্ঞা করতে চাই আপনাদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আন্দোলন চূড়ান্ত লক্ষ্যে নিয়ে যাব। সুখে–দুঃখে সব সময় আপনাদের পাশে থাকব। পিছিয়ে পড়া এসব এলাকার উন্নয়নে যা যা করা দরকার, আমি আমার রক্ত ঘাম দিয়ে তা–ই করব।’

ভোটে কারচুপির পরিকল্পনার আবারও অভিযোগ করে ইশরাক বলেন, ‘একতরফা ফিল্ড তৈরি হচ্ছে, ভোট ডাকাতির ফিল্ম তৈরি হচ্ছে।’

৩০ জানুয়ারি নির্বাচনের দিন সরস্বতীপূজা হওয়ায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা তারিখটি পরিবর্তনের দাবি করেছেন। এ বিষয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত। আমাদের ঈদ থাকলে অবশ্যই আমরা চাইতাম না ওই দিন ভোট হোক। এটা আদালতের বিষয়। আদালত এবং নির্বাচন কমিশন মিলে সিদ্ধান্ত নেবেন।’

আজ গণসংযোগে ইশরাকের সঙ্গে ছিলেন মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, যুবদল, ছাত্রদল ও স্থানীয় বিএনপির নেতা–কর্মীরা।

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*