পূজার কারণে ভোট অবশ্যই পেছানো উচিত: ইশরাক

সরস্বতী পূজার কারণে ভোটের তারিখ পেছানোর দাবি জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন। বলেছেন, ভোট অবশ্যই পেছানো উচিত।

বুধবার দুপুরে ধানমন্ডি এলাকায় ষষ্ঠ দিনের মতো নির্বাচনী প্রচার ও গণসংযোগ চলাকালে তিনি এই কথা বলেন।

দুপুর সোয়া ১টার দিকে ধানমন্ডিতে অবস্থিত বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে ইশরাকের নির্বাচনী প্রচার ও গণসংযোগ শুরু হয়।

ঢাকা সিটি নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার দাবি ছিল হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের। এ নিয়ে আদালতে রিটও হয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার তা খারিজ করে দেয়ায় নির্ধারিত তারিখেই হচ্ছে দুই সিটির ভোট।

আদালত রিট খারিজ করে দেয়ার পর নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোট এবং পূজা একসঙ্গে হবে। তবে এই ঘোষণার পর থেকে আন্দোলন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ভোটের তারিখ না পেছালে লাগাতার আন্দোলনেরও ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

ভোট পেছানোর দাবির বিষয়ে বিএনপির সিদ্ধান্ত জানতে চাইলে ইশরাক সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত। আমরা মুসলমান, আমাদের ঈদের দিন যদি ভোটগ্রহণ হতো তাহলে আমরাও চাইতাম ভোট পেছানো হোক। তাই আমি মনে করি অবশ্যই ভোট পেছানো উচিত।

ইশরাক বলেন, ‘আমি মেয়র নির্বাচিত হলে একটি বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলার লক্ষ্যে যত পদক্ষেপ নেয়া দরকার প্রথমেই তা নেব।’

অনিময় দেখার জন্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। প্রচারণার ছয় দিনে তাদের সাথে দেখা করেছেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ইশরাক বলেন, ‘আমি একবারও তাদের সঙ্গে দেখা করিনি। তবে আমাদের নির্বাচনী ক্যাম্প থেকে তাদের কাছে প্রতিনিয়ত অভিযোগ যাচ্ছে। তাদের কাছ থেকে আমরা খুব একটা কিছু আশাও করি না। এখন পর্যন্ত আমি তাদেরকে মাঠেও দেখিনি।’

ইশরাকের প্রচারে ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, প্রকাশনা সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, যুবদল নেতা মোরতাজুল করিম বাদরু, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ইশরাকের ছোট ভাই ইশফাক হোসেন প্রমুখ।

(ঢাকাটাইমস

ভোট চুরি হলে মাঠে নামার ঘোষণা মান্নার

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনকে (ইভিএম) ভোট চুরির বড় মাধ্যম দাবি করে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ‘ইভিএমের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। ৩০ জানুয়ারি ভোট চুরি হলে পরের দিন মাঠে নামতে হবে।’

বুধবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ‘অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচনে বিশ্বব্যাপী ইভিএম প্রত্যাখ্যান এবং বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক এই গোলটেবিল আলোচনায় তিনি একথা বলেন। গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে স্বাধীনতা অধিকার আন্দোলন নামে একটি সংগঠন।

আগামী ৩০ জানুয়ারি ঢাকার দুই সিটিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইভিএমে ভোটগ্রহণ নিয়ে এখনো বিতর্ক থাকলেও এই পদ্ধতিতেই ভোট নেওয়ার জন্য প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ইসি বলছে, ত্রুটিমুক্ত নির্বাচন করতেই ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে অনিয়ম ও কারচুপি কমবে। এছাড়া ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ইভিএমের পক্ষে থাকলেও বিএনপি ইভিএমের বিপক্ষে। বিএনপির আশঙ্কা, ইভিএমে ডিজিটাল কারচুপি হবে।

বুধবার গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নিয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাও ইভিএমে ভোট চুরি হবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন।

মান্না বলেন, ‘যে যন্ত্র ব্যবহার করলে বিতর্ক থাকবে না, মামলার সুযোগ নেই, কোথায় ভোট দিলেন জানার সুযোগ নেই তাহলে এর চেয়ে ভোট চুরির বড় মাধ্যম আর কী হতে পারে? ইভিএম মানা যাবে না।’

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এই যন্ত্রের মাধ্যমে সহজেই ভোট চুরি করা যাবে। যা বিশ্বের বহু দেশে ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সুতরাং বাংলাদেশেও ইভিএম ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে। এই যন্ত্রের ব্যবহারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’

সভায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম। আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন কাজী মনিরুজ্জামান।

মান্না বলেন, ‘যন্ত্র তো মানুষ তৈরি করেছে। সেটার নিয়ন্ত্রণ তো মানুষের কাছে। আপনি কোথায় ভোট দিলেন সেটা তো ভোটাররা জানতে পারবেন না। আমাদের বেহায়া নির্লজ্জ নির্বাচন কমিশনার বলেছেন ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হলে দিনের ভোট নাকি রাতে হবে না। তো আপনি এর আগে কী করেছেন? যে যন্ত্র ব্যবহার করলে বিতর্ক থাকবে না, মামলার সুযোগ নেই, কোথায় ভোট দিলেন জানার সুযোগ নেই তাহলে এর চেয়ে ভোট চুরির বড় মাধ্যম আর কী হতে পারে?

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক বলেন, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে যে ভোটডাকাতি হলো তখন যদি আমরা মাঠে নামতাম তাহলে তারা সাহস পেতো না। আসুন তখন যেটা পারিনি ২০২০ সালে সেটা করি। কারণ এটা বিএনপি, গণফোরাম বা অন্য কারো লড়াই নয়। যেখান থেকেই নির্দেশ আসুক মাঠে নামতে হবে। এটা আমাদের ভোটাধিকার ররক্ষার ও বাঁচা মরার লড়াই।

গোলটেবিল আলোচনায় গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, ইভিএম আমাদের ভোটাধিকার হরণ করবে। এই যন্ত্রের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ ভোটারদের কাছে থাকবে না। তারা ক্ষমতা দখল করতে যত ধরনের পদ্ধতি আছে সব ব্যবহার করতে চাচ্ছে। আমাদের আশঙ্কা সিটি নির্বাচনের ফল তারা ঠিক করে রেখেছে। এখন শুধু ঘোষণার অপেক্ষায়। তবে আমরা মনে করি এই নতুন বছরের শুরুটা হচ্ছে সরকারের পতনের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।

আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘ইভিএম চাচ্ছে কে? সরকার ও নির্বাচন কমিশন। এর পেছনে কোনো সঠিক উদ্দেশ্য নেই। তারা নির্বাচন সামনে এলেই নতুন নতুন পদ্ধতি নিয়ে আসেন। ২০১৪ সালে গোলমাল লাগিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৩ জন এমপি নির্বাচিত হয়েছেন! এখন সিটি নির্বাচনে যদি রাত তিনটা বা চারটার দিকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়! ভোট বানচালের জন্যই ইভিএম ব্যবহার করতে চাচ্ছে।

শাহদীন মালিক আরও বলেন, এই পদ্ধতি নিয়ে দিন দিন সংশয় বাড়ছে। ফলে সেটা ব্যবহার করা হলে ভোটারদের উপস্থিতি খুব কম হবে। তাহলে প্রতারণা করা সহজ হয়। ভোটাধিকার হরণ ও ভোট দেয়া থেকে বিরত রাখতে ইভিএম ব্যবহার করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার ও নির্বাচন কমিশন।

সিটি নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণায় সব ধরনের মানুষের মাঝে গিয়ে ভোট চায়। মেয়র প্রার্থীদের কারো অভিজ্ঞতা নেই। তবে তারা সবাই কোটিপতি। সুতরাং আমাদের গণতন্ত্র এখন কোটিপতি গণতন্ত্র। আমরা কোটিপতিদের নিয়ে একটা প্রতারণামূলক নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

(ঢাকাটাইমস/

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*