ছাত্রলীগ নেতার ছাত্রত্ব বাতিল

কোর্স পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিল হয়েছে বলে জানা গেছে। তৌকির মাহফুজ মাসুদ নামের ওই শিক্ষার্থী ইংরেজি বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষবর্ষের ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক। গত ৫ জানুয়ারী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) এ কে আজাদ লাভলু স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তার অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

যা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী ছাত্রত্ব না থাকার প্রমান বলে জানিয়েছেন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সালমা সুলতানা। এ বিষয়ে তিনি জানান, অকৃতকার্য হওয়ায় অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী ওই শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব আর নেই। প্রথমে ভুলক্রমে ফলাফলে অকৃতকার্য হওয়া সত্ত্বেও কৃতকার্য দেখানো হয়েছিল। যা পরবর্তীতে বিভাগ তা সংশোধন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসে পাঠানো হয়।

বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়, তৌকির মাসুদ ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হলেও স্নাতক প্রথমবর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা দেন ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। এরপর ২০১৭ সলে ওই শিক্ষাবর্ষের (২০১১-১২) চতুর্থ বর্ষের স্নাতক (সম্মান) চূড়ান্ত পরীক্ষা-২০১৫ অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার পর ফলাফলে দেখা যায়, তিনি তৃতীয় বর্ষে একটি কোর্সে অকৃতকার্য হয়েছেন।

পরবর্তীতে ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ বর্ষ মানউন্নয়ন (সম্মান) চূড়ান্ত পরীক্ষা ২০১৮ সলে অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু তিনি ওই মানউন্নয়ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেননি এবং ফলাফল পত্রে তার নামও পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী, যদি কোন শিক্ষার্থী মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেন, তাহলে তাকে আর দ্বিতীয়বার মানউন্নয়ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয় না। সে হিসেবে পরে মাসুদ বিশেষ মান উন্নয়নের জন্য আবেদন করলেও একাডেমিক কাউন্সিল তা গৃহীত করেনি।

এদিকে তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষায় অকৃতকার্য থাকা সত্ত্বেও চতুর্থ বর্ষের ফলাফলে তৌকির মাসুদকে কৃতকার্য দেখানো হয়। পরে বিষয়টি নজরে আসার পর বিভাগ থেকে চুড়ান্তভাবে সংশোধন করে দিলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে পুনরায় (রিভিউ) ফলাফল প্রকাশ করে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সাইদুজ্জামান বলেন, ‘ফলাফলের এ ভুলটি বিভাগীয় পরীক্ষা কমিটি এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের কারো চোখেই পড়েনি। ভুলক্রমে তার তৃতীয় বষের্র ফলাফলে অকৃতকার্য হওয়া সত্ত্বেও কৃতকার্য দেখানো হয়েছে।

পরে সংশোধন করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সূত্রে তৌকির মাসুদের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রথম বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় তার সিজিপিএ ২.২৯। ওই বর্ষে সে ১০৬ নম্বর কোর্সে অকৃতকার্য হন। এরপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষে সিজিপিএ পান যথাক্রমে ২.৫৩ ও ২.২৮। যা তিনবর্ষ মিলিয়ে ২.৩৭ হয়।

তৃতীয় বর্ষে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য একজন শিক্ষার্থীর প্রয়োজন সিজিপিএ ২.৫০। এর থেকে কম পেলে তাকে অকৃতকার্য বলে বিবেচিত করা হয়। অধ্যাদেশ অনুযায়ী, তৃতীয় বর্ষেই তার ছাত্রত্ব বাতিল বলে গণ্য হবে। সে হিসেবে তৌকির মাসুদের ছাত্রত্ব বাতিল হয়েছে জানিয়েছেন বিভাগীয় সভাপতি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী বলেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়ম কখনোই তামাদি হবেনা। যখনই দৃষ্টিগোচর হচ্ছে তখনই ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

এআইআ/এইচি

Author: shafah

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *