কাউন্সিলর প্রার্থীর বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তাবিথের

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল একজন কাউন্সিলর প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন। তাবিথের নির্বাচনী প্রচারণায় তার কর্মীদের মারধর ও মাক্রোফোন ভাঙচুরের অভিযোগ এনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।

ডিএনসিসি ৩৮ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাচন ভবনে সিইসি বরাবর চিঠি দেন তাবিথের একজন প্রতিনিধি।

চিঠিতে তাবিথ অভিযোগ করে বলেন, ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। আমার পক্ষে সিটি করপোরেশন (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০১৬ এর ২১ বিধি অনুযায়ী বিধিসম্মতভাবে আজ ১৩ জানুয়ারি তারিখে বেলা তিনটায় নির্দিষ্ট সময়ে মাইক্রোফোনের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা চলছিল।

কিন্তু মেয়র পদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে ৩৮ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল কর্মীরা আমার ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকায় আমার নির্বাচনী প্রচারণারতদের মাইক্রোফোন ভাঙচুর ও মারধর করেছে। এরূপ অনভিপ্রেত গোলযোগ ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণ এবং বেআইনি বলপ্রয়াগে বিধিমালার ১৮ বিধির সুস্পষ্ট লংঘন।’

চিঠিতে আচরণ বিধিমালার সুস্পষ্ট লংঘনের বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়।

ঢাকাটাইমস/১৪জানুয়ারি/

নির্বাচনে ‘দুই নাম্বারি’ হলে আন্দোলন: মান্না

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ‘ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ‘দুই নাম্বারি’ হলে ৩০ জানুয়ারি থেকে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করবে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো।’

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে বক্তব্য রাখছিলেন মান্না।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠান এবং ফল ঘোষণা, এটাই শেষ খেলা নয়। তারা (আওয়ামী লীগ) মনে করতে পারে এটাই ফাইনাল খেলা। ভোটে দুই নাম্বারি হলে ৩০ জানুয়ারি থেকে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করবে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো।’

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা রাজনৈতিক দলগুলোর কথায় কোনো গুরুত্ব দেন না বলে অভিযোগ করে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এক অদ্ভূত জীব। তাকে আপনি যাই বলেন, উনি শুনবেন, শোনার পর তার নিজের কথাই বলবেন। উনি যে কিছু শুনেছেন এটা মনে হবে না।’

‘যেখানে নির্বাচন কমিশনার নিজেই চোর, নিজেই ডাকাত। তার আবার ইভিএম নিয়ে এত কথাবার্তা- এটা শুনে আমাদের লাভ নেই।’

এ সময় ইভিএমে ভোট গ্রহণের সমালোচনা করেন মান্না। বলেন, ‘ইভিএমে কোনো কারণে যদি কারো আঙ্গুলের ছাপ না মিলে তাহলে প্রিজাইডিং অফিসার সেখানে ২৫ শতাংশ ভোট নিজে দিতে পারবেন। এর চাইতে ফোরটোয়েন্টি আর কী হতে পারে?’

জার্মানি, আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসে ইভিএমে ভোট নেওয়া বাতিলের উদাহরণ তুলে ধরে মান্না বলেন, ‘জার্মানি ইভিএম আবিষ্কার করেছিল, তবে সেখানে ইভিএমে কোনো ভোট হয় না। আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডসও সে পদ্ধতি বাতিল করেছে। ভারতেও নির্বাচন কমিশন বিভিন্নজনের মতামত নিয়ে ইভিএমের পরিবর্ধন সংশোধন করেছে। সেখানেও ইভিএম নিয়ে প্রচুর কথাবার্তা হয়েছে।’

নাগরিক ঐক্যের এই আহ্বায়ক বলেন, ‘দেশে ব্যবহৃত ইভিএমের ডিজাইন ঠিকমতো অনুসরণ করা হয়নি। শ্রদ্ধেয় জামিলুর রেজা চৌধুরী সেটাতে স্বাক্ষর পর্যন্ত করেননি। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, এটা চালু করেছি যাতে দিনের ভোট রাতে না হয়। তার মানে আগে যে রাতে ভোট হয়েছিল, সেটা তিনি স্বীকার করছেন।’

দুই সিটি নির্বাচনে ইভিএমে ভোট বাতিলের অনুরোধ করে মান্না বলেন, ‘একটা মেশিন আমরা যেভাবেই কাজে লাগাতে চাই, সেভাবে কাজে লাগানো যায়। আমরা যদি মনে করি, ইভিএমের মধ্যে আমরা সেইরকম কমান্ড দেব, আপনি যেখানেই চাপ দেন নৌকা মার্কায় সিলটা যাবে। ভেতরের ঘটনা তো দেখতে পাচ্ছেন না। সুতরাং, এটা বাতিল করতে হবে।’

মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন গণতন্ত্র ফোরামের সভাপতি ভিপি ইব্রাহিম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।

(ঢাকাটাইমস/

Author: shafah

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *