‘আমরা লেখক দার লোক’ বলেই নারীর ওপর হামলা করলেন ইডেন ছাত্রলীগের ৩ কর্মী

ইডেন কলেজের সামনের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন এক পথচারী নারী। এ সময় কলেজ ছাত্রলীগের তিন কর্মী তাকে ‘হিজড়া’ বলে ডাক দেন। প্রতিবাদ করায় ওই নারীর ওপর চড়াও হন তারা। তাকে বেধরক মারধর করা হয়।

মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮ টার দিকে কলেজটির বিপরীতে ফুড কর্নারের সামনে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীরা হলেন- সুষ্মিতা বাড়ৈ, সোনালী আক্তার ও জ্যোতি সাহা। আর হামলার শিকার ওই নারীর নাম আনিকা।

মারধরের সময় ছাত্রলীগ কর্মীরা দলীয় পরিচয় উল্লেখ করে হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন আনিকা।

এ ঘটনা উল্লেখ করে ফেসবুকে পোস্ট দেন আনিকা।

তিনি লিখেছেন, ‘আমি আনিকা…ইডেন কলেজের সামনে কলোনী দিয়ে হেটে বাসায় যাচ্ছিলাম। তখন একটা মেয়ে আমাকে “হিজরা” বলে ডাক দেয়, তখন আমি তার কাছে বললাম আপনি আমাকে হিজরা বললেন কেনো? তখন তার সাথে থাকা মেয়েসহ আমার দিকে তেড়ে আসে, এবং আমাকে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করে এবং আমি যখন বলি আপনারা এই রকম ব্যবহার কেন করছেন…তখন বলে আমরা ইডেন কলেজে পড়ি, ছাত্রলীগ করি, লেখক দার( সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ) সাথে রাজনীতি করি, এই বলে আমাকে গালাগালি

আর মারধর করে চুল ধরে একে অপরের নাম নেয় তখন আমি ওদের নাম শুনতে পাই। ওরা ছিল সুষ্মিতা বাড়ই, সোনালী আক্তার এবং জোতি সাহা। ওরা আমাকে মারতে মারতে মাটিতে শুয়ে ফেলে এবং আমার ওরনা টেনে ফেলে দেয় আমাকে বিবস্ত্র করে ফেলে….. বলে পোলাপাই ডাক ওরে মাইরা ফেল…. কেউ আমাকে বাচাতে আসেনি….এটা কি বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ, যে দেশের একটি সাধারণ মেয়ে রাস্তা দিয়ে হেটে যেতে পারবে না। জাতির কাছে প্রশ্ন…!!!! আজ আমি একা বলে বিচার পেলাম না…..বিচার চাই….”

এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, আমি বন্ধুদের নিয়ে সেখানে আড্ডা দিচ্ছিলাম, তখন দেখি কয়েকটি মেয়ের মধ্যে হাতাহাতি হচ্ছে। পরে অনেক লোক সেখানে জড়ো হন।

এ ঘটনা ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে হামলাকারীদের একজন সুষ্মিতা আনিকাকে কল দিয়ে এ ঘটনার জন্য দু:খ প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে কাউকে না জানাতে সুস্মিতা অনুরোধ করেন বলেও জানান আনিকা।

এই হামলার ঘটনা ফেসবুকে পোস্ট দেয়ায় তা মুছে দিতেও হুমকি আসছে বলে জানালেন অনিকা। এ ক্ষেত্রে দলীয় লোকদের হয়রানির আশঙ্কায় থানায় অভিযোগ করা থেকেও বিরত থাকতে হচ্ছে বলে তিনি বলেন।

পূর্বপশ্চিমবিডি/

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*